কি জানি এক দুঃস্বপ্নে আচমকা ঘুম ভেঙে যাওয়া.....

কি জানি এক দুঃস্বপ্নে আচমকা ঘুম ভেঙে যাওয়া.....
শৌচকাজ সম্পন্ন করে এসে আবার শুয়ে পড়া।
ঘুম আসি আসি। আবার চোখ সজাগ হয়ে উঠলো।
এবার বাঁধ সাধলো প্রকৃতি।
হঠাৎ তুমুল শীতল ঘূর্ণি প্রবাহ! বাতায়ন খোলা ছিল। তাই ঠান্ডা পরশ সরাসরি সেখান দিয়ে এসে মশারীর ছোট ছিদ্রগুলো ভেদ করে গায়ে মাখিয়ে দিয়ে গেলো! চমৎকার বিজলী আলো মুহূর্মুহূ চোখের পাতার উপর প্রতিফলিত হলো। মেঘমিলনের সুমধুর 'গুড় গুড়' ধ্বনি কর্ণকুহরে টোকা দিলো।
সজাগ হয়ে উঠলো আবার তনু-মন। আরো বেশি করে পেতে চাইলাম এই মধুর শীতল পরশ; ভালোভাবে পেতে চাইলাম আরো প্রকৃতির এই চমৎকার সান্নিধ্য; হয়তো মন ঘেমে ছিলো তাই।
বারান্দায় এসে বসে পড়ি কাঠের কেদারায়। আবছা আলো-আঁধারিতেই বুঝতে কষ্ট হলো না যে আকাশের মুখ কালো। অনুমান আরো সত্য হয়ে ধরা দিতে শুরু করে, যখন একটু পরই পূব আকাশে ফুটতে শুরু করে দিনমণি। আকাশের বুক বেয়ে বড় বড় মেঘখণ্ড দিক্বিদিক ভেসে বেড়াতে দেখি তখন।
ধীরে ধীরে মেঘমালার সখ্য বেড়ে যাচ্ছিলো আরো। সব খণ্ড খণ্ড মেঘ হঠাৎই পরষ্পরকে জড়িয়ে নিলো ভালো করে। বিজলী আলোর প্রতিফলন আর মেঘমালার সঙ্গমের তীব্র গোঙানিও বেড়ে যেতে লাগলো।
বুঝতে বাকী রইলো না, মেঘমিলনের সঙ্গমের ফসল হয়ে শীঘ্রই ধরায় প্রস্রবণ হবে শীতল বারির।
বলতে না বলতেই আকাশের বুক চিড়ে ঝরতে আরম্ভ হলো অঝোর ধারায় জল।
আরম্ভ হলো হৃদয় প্রশান্তিকর তুমুল বৃষ্টি।
আহ! কি এক স্বর্গীয় দৃশ্যের অবলোকন!
হঠাৎ বোধোদয় হলো- আরে, যার কারণে প্রকৃতির এত সুন্দর রূপ ধরা দিলো এই নয়নজোড়ায়, আমি তো সেই অবিনাশী জগদীশ্বরকেই আরাধনায় ডাকিনি এখনো!
এতো সুন্দর একটি মুহূর্তের প্রত্যক্ষদর্শী হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ায় ছুটে গেলাম সেই অবিনশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের জন্য।
বৃষ্টির জলতরঙ্গ উপভোগ করতে করতেই সেই মহান প্রভুর শরণাপন্ন হই.

Comments

Popular posts from this blog

বিজয় দিবস ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭